সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কার্যক্রম চালানো কোম্পানিগুলোর ওপর প্রথমবারের মতো আদায় হচ্ছে করপোরেট আয়কর। সে কর পরিশোধের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৮৭০ কোটি আমিরাতি দিরহাম বা ২৪০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে উড়োজাহাজ কোম্পানি এমিরেটস। খবর দ্য ন্যাশনাল।
এমিরেটস জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তাদের মুনাফা আগের বছরের ৯৪০ কোটি দিরহাম থেকে ৭ শতাংশ কমে ৮৭০ কোটি দিরহামে নেমে এসেছে। অবশ্য চলতি বছরের আয় গত বছরের একই মাসের সঙ্গে সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। কারণ চলতি বছর ৯ শতাংশ করপোরেট আয়কর এমিরেটসের আর্থিক প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইনসটির কর-পূর্ব মুনাফা এপ্রিল-সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৯৭০ কোটি দিরহামে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৫০ কোটি দিরহাম। এমিরেটস জানায়, ভ্রমণ ও কার্গো পরিবহনের চাহিদা বাড়ায় মুনাফা বেড়েছে।
এয়ারলাইনসটির আয় আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৬ হাজার ২২০ কোটি দিরহামে দাঁড়িয়েছে।
এমিরেটসের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাকি সময়ে গ্রাহকের চাহিদা আরো বাড়বে। বহরে নতুন উড়োজাহাজ এবং অন্যান্য সুবিধা যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সক্ষমতা ও আয় বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেব।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগামী দিনের সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তবে আমরা এ অর্জনেই থেমে থাকতে চাই না। পরিবর্তনশীল বাজারে স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে সম্পদ ও সক্ষমতা ব্যবহার করাই আমাদের লক্ষ্য।’
গাজায় ইসরায়েলি হামলা সত্ত্বেও অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এমিরেটসে ভ্রমণ চাহিদা বেড়েছে। তবে অন্যান্য এয়ারলাইনসের মতো এমিরেটসের ইসরায়েল, লেবানন, ইরাক, জর্ডান ও ইরানগামী ফ্লাইটগুলো গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলি হামলার কারণে বিঘ্নিত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে এমিরেটস আটটি শহরে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে আছে অ্যামস্টারডাম, সেবু, ক্লার্ক, লুয়ান্ডা, লিওন, মাদ্রিদ, ম্যানিলা ও সিঙ্গাপুর। এছাড়া জুনে মিয়ামি হয়ে বোগোটা এবং সেপ্টেম্বরে সেশেলস হয়ে মাদাগাস্কারে নতুন রুট চালু করেছে।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এমিরেটসের মূল কেন্দ্র। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ৪ কোটি ৪৯ লাখ যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে এপ্রিল-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এমিরেটস ২ কোটি ৬৯ লাখ যাত্রী বহন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। অবশ্য আসন পূর্ণতার হার অর্থবছরের প্রথমার্ধের ৮১ দশমিক ৫ থেকে কমে ৮০ শতাংশে নেমে এসেছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এয়ারলাইনসটির কার্যক্রম বাড়ায় পরিচালন ব্যয় ৬ শতাংশ বেড়েছে।